অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন
আজ ০৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলায়) আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার আয়োজন বিষয়ে একাডেমির অবস্থান তুলে ধরেন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নার্গিস সানজিদা সুলতানা
উপপরিচালক
জনসংযোগ উপবিভাগ
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ প্রসঙ্গে বইমেলা সদস্য-সচিব -এর বক্তব্য :
সমবেত সাংবাদিক বন্ধুরা
শুভেচ্ছা
আসন্ন অমর একুশে বইমেলার ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬ আয়োজন নিয়ে কিছু মত ও ভিন্নমত আমাদের নজরে এসেছে। এই বিষয়ে বাংলা একাডেমির বক্তব্য তুলে ধরার জন্যই আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আপনারা জানেন দীর্ঘকাল ধরে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রকাশক ও অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বয়ে ভাষাশহিদের স্মরণে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। মাসব্যাপী এই বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা এখন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর বইমেলা পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালানা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বইমেলা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টলভাড়া ২৫% কমানো হয়েছে। যদিও বইমেলা আয়োজনের সার্বিক ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতোমধ্যে বইমেলা সংক্রান্ত আমাদের সকল আয়োজন প্রত্যাশামতো সম্পন্ন হয়েছে। বইমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্টল নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। বইমেলার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এবার বইমেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে স্টলের জন্য গতবছর যেসকল প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্য থেকে ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছেন। স্থান সংকুলানের বাস্তবতায় গতবছরের ৫২৭টিসহ নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
গতবছরের চেয়ে বর্ধিত আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।
বইমেলার আয়োজনের কাজ যখন ৬০ ভাগ সম্পন্ন, তখন কিছু সম্মানিত প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা প্রকাশকদের বক্তব্য শুনেছি। তাঁদেরকেও বলা হয়েছে কেন ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করা দুরূহ। তখন এপ্রিল মাস এসে যাবে। এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থাকে। ধুলোবালির উপদ্রব বাড়ে। কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে প্রবল। এই সময় মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তাই সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা শুরু হবে। আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী সম্মানিত প্রকাশকদের অনুরোধ করছি কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলায় অংশ নিতে এগিয়ে আসার জন্য।
আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।
সদস্য-সচিব
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটি
Tags:
বইমেলা